সোমবার, ১১ আগস্ট, ২০১৪

মোহাম্মদ নূরুল হক ।। জামায়াতের বিচার : কালের প্রেক্ষাপটে


জামায়াতে ইসলামী যুদ্ধাপরাধীদের দল___ এ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির মধ্যে কোনও দ্বিমত নেই।  একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দলটির নেতাদের বিচারের মুখোমুখি করানোর পক্ষে অনেকেই। কারও কারও অবস্থান এর বিপক্ষেও। শেষোক্তদের যুক্তি___ দলটির সব নেতাই মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত নয়। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের অনেককে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানোও হয়েছে। বেশ কয়েকজনের মৃত্যুদ-াদেশ, যাবজ্জীবন কারাদ-ের আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। দ-াদেশপ্রাপ্তদের মধ্যে আবুল কালাম আযাদ পলাতক। বাকিরা সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছেন। আপিল শুনানি শেষে একজনের মৃত্যুদ- কার্যকর করা হয়েছে।  এখন প্রশ্ন হল___ এতজন জামায়াতনেতার মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও দল বা সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বিচার করার পথে কোনও প্রতিবন্ধকতা আছে কি না। 
প্রশ্নের মীমাংসার আগে জামায়াতে ইসলামীর অতীতের কর্মকাণ্ডের দিকে তাকাতে হয়। বিতর্কিত নেতা আবুল আলা মওদুদির নেতৃত্বে ১৯৪১ সালের ২৬ আগস্ট প্রতিষ্ঠা করা হয় জামায়াতে ইসলামী হিন্দ। ’৪৭ সালে দেশভাগের পর মুসলিম পারিবারিক আইনের বিরোধিতা করে জামায়াত। এ কারণে ১৯৬৪ সালে দলটিকে নিষিদ্ধ করে পাকিস্তান সরকার। অবশ্য পরবর্তী সময়ে ওই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। বাংলাদেশের মু্িক্তযুদ্ধ ও ১১ দফাসহ বিভিন্ন দাবিরও বিরোধিতা করে এই জামায়াত। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সহায়তা করার লক্ষ্যে জামায়াত একাধিক দলও গঠন করে। এসব দলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল___ রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও ইসলামী ছাত্র সংঘ।
মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিল যুদ্ধাপরাধের বিচার সম্পন্নের। সে লক্ষ্যে দলটি বেশ এগিয়েছেও। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন, বিচার শুরু করাসহ রায় কার্যকর পর্যন্ত ইতিবাচক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। এ প্রক্রিয়ারও রয়েছে দীর্ঘ পথপরিক্রমা। ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি জামায়াতনেতা আবদুল কাদের মোল্লার রায়কে কেন্দ্র করে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের যাত্রা শুরু। গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের মুখে ২০১৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি সংবিধান সংশোধন করে ট্রাইব্যুনাল আইনে সংশোধনী আনে সরকার। এ সময় ব্যক্তির পাশাপাশি সংগঠন বা দলের বিচারের বিধান জুড়ে দেওয়া হয়। এর আগের বিধান অনুযায়ী সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বিচার করার সুযোগ ছিল না। ২০১৩ সালের ১ আগস্ট রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের নিবন্ধনকে অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। ফলে দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগও বাতিল করে দেয় নির্বাচন কমিশন। হাইকোর্টের রায় ঘোষণার পর তৎকালীন আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেছিলেন, জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণার রায় দলটির রাজনীতি নিষিদ্ধের ‘আইনি প্রক্রিয়ায় শক্ত ভিত্তি’ হিসেবে কাজ করবে। তবে এ প্রসঙ্গে বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, এ রায় দিয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছেন হাইকোর্ট। ইসি রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতকে নিবন্ধন দিয়েছিল। তার মতে, একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইসির দেওয়া নিবন্ধন অবৈধ ঘোষিত হওয়ায় ইসির অক্ষমতারই প্রকাশ ঘটেছে।
জামায়াতনেতা গোলাম আযমের মামলার ঘোষিত রায়ের পর্যবেক্ষণে তিনি উল্লেখ করেছেন___ জামায়াতে ইসলামী একটি ‘ক্রিমিনাল সংগঠন’। সংগঠনটির রাজনীতি প্রতারণাপূর্ণ। এখনও বাংলাদেশে জামায়াতের নেতৃত্ব দিচ্ছেন একাত্তরের স্বাধীনতাবিরোধীরা। দলটি স্বাধীনতাবিরোধিতার অবস্থান থেকে সরে আসতে পারেনি। এখনও তারা বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী কর্মকা-ে লিপ্ত। সরকারি-বেসরকারি শীর্ষ পদে স্বাধীনতাবিরোধী কোনও ব্যক্তিকে না বসানো এবং সরকারি পদ থেকে ওইসব ব্যক্তিকে সরিয়ে দেওয়ার পক্ষে মত ব্যক্ত করেন ট্রাইব্যুনাল।
জামায়াতের কারণে তরুণদের মধ্যে স্বাধীনতাবিরোধী ও সাম্প্রদায়িক মানসিকতা সৃষ্টি হচ্ছে বলেও মনে করেন ট্রাইব্যুনাল। এই সক্রিয় স্বাধীনতাবিরোধীরা মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে তাদের অবস্থান এখনও পরিবর্তন করেনি। এ ব্যাপারে তারা কোনও অনুশোচনা প্রকাশ করেছে বলে জাতির কাছে কোনও প্রমাণ নেই। সুতরাং এই অপরাধী সংগঠনের নেতাকর্মীদের স্বাধীন বাংলাদেশে রাজনীতি করার, ভোটাধিকার প্রয়োগ ও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার থাকতে পারে কি না___ এটা সমাজ ও রাষ্ট্রকে বিবেচনা করতে হবে। একটি অপরাধী সংগঠনকে যদি রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হয়, তা হলে বাংলাদেশের অখ-তা হুমকির সম্মুখীন হবে, তা আর নতুন করে বলার দরকার নেই।
সুপ্রিম কোর্ট দলটির নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনই চাইলে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে দিতে পারে। আবার যুদ্ধাপরাধীদের দল হিসেবে বিচারের মুখোমুখি দাঁড়া করানোও যায়। সে ক্ষেত্রে বিচারপ্রার্থী পক্ষকে ভেবে দেখতে হবে, জামায়াতের সর্বোচ্চ দ- কী হতে পারে।
জামায়াত জঙ্গি সংগঠন। মূলত ওই পর্যবেক্ষণের পরই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারপ্রার্থীরা নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন। অবশ্যই এর আগে দলের বিচারের দাবি ওঠার পর জামায়াতের নবীন-প্রবীণ নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। নবীনরা চেয়েছেন দলের সংস্কার। তারা প্রবীণদের দল থেকে বাদ দেওয়ার পক্ষেও মত দিয়েছেন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে মূল সমস্যা___ জামায়াতের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। ব্যাংকসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ এখনও প্রবীণদের হাতে। ফলে তাদের বাদ দিয়ে দল পুনর্গঠন করা হলে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নবীনরা অর্থসংকটে পড়বে। হয়তো এসব দিক বিবেচনা করেই শেষপর্যন্ত নবীনরা সংস্কারের দাবি থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়।
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া দেখতে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাপরাধবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিফেন জে র‌্যাপ পঞ্চমবারের মতো বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন। ৩ দিনের সফর শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আধুনিক অপরাধ আইনে ব্যক্তির বিচার করা হয়ে থাকে, সংগঠনের বিচার করা হয় না। জাতীয় সংহতি সুরক্ষার স্বার্থেও দলের বিচার সমীচীন নয়। তার মতে, একটা রাজনৈতিক দলে হাজার হাজার কর্মী থাকেন। তারা দলকে অপরাধ করার সিদ্ধান্ত দেননি। দলের নেতৃত্ব কিংবা অন্য কোনও পর্যায়ের ব্যক্তিরা অপরাধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। ব্যক্তিবর্গ অপরাধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই অপরাধ যারা করেছেন শুধু তাদের বিচার করা উচিত। রাজনৈতিক দলের বিচার করাটা ভবিষ্যতে জাতীয় সংহতির জন্য সহায়ক নয়।
তার এই অভিমতের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। তার মতে, র‌্যাপের বক্তব্য তার নিজস্ব বক্তব্য। বাংলাদেশের জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটানোর লক্ষ্যে অবশ্যই যুদ্ধাপরাধী দল হিসেবে জামায়াতের বিচার করা উচিত।
জামায়াতকে যুদ্ধাপরাধী দল হিসেবে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করালে, বিচারে দলটি নিষিদ্ধ হলে, সে ক্ষেত্রে জামায়াতের নেতাকর্মীরা পরবর্তী সময়ে কী করবে? তাদের সবাইকে নিশ্চয় মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে না। যদি তা-ই হয়, তাহলে দ-িতরা নতুন নামে নতুন দল গঠন করবে। আর তাদের রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিলে তাতে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠবে ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে। এছাড়া প্রকাশ্য রাজনৈতিক দল গঠনের অধিকারবঞ্চিতরা চলে যাবে আন্ডারওয়ার্ল্ডে। চালাতে থাকবে চোরাগোপ্তা হামলা। প্রশাসন পড়বে চরম বিপাকে। রাজনৈতিক নেতার কাছে যেমন সহজে জবাবদিহিতা চাওয়া যায়, রাজনৈতিক পরিচয়হীনের কাছে তত সহজে চাওয়া যায় না। তাকে শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়ে। যুদ্ধাপরাধী সংগঠন হিসেবে বিচারে জামায়াতের শাস্তি যা-ই হোক, সরকারকে কিছু বিষয়ে সুচিন্তিত পদক্ষেপ নিতে হবে। বিচারপরবর্তী কালে দলটির নেতাকর্মীরা যেন কোনওভাবেই আন্ডারগ্রাউন্ড রাজনীতিতে জড়িয়ে না পড়ে, সে ব্যাপারেও সরকারকে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে।

লেখক : সংবাদকর্মী

শুক্রবার, ১ আগস্ট, ২০১৪

মহাকাশের লালা ।। সিপাহী রেজা

আকাশফুল বাতাসলতা নদী। নদীর পাশে আবারও একটি ফুল, হলুদ। তিরতির করে কাঁপা তার পাপড়ি, নদীর শরীরের মতোই একাংশ কাকচক্ষুজল। ফুলটার গায়ে বিছার মতন নদীটাও যায় গড়িয়ে... সামনেই পৃথিবী। ওখানে নদীর খুব দরকার—সাগরের, ঝর্ণার, হিমালয়ের।

তারপর মেঘের ঋতু, বায়ুমণ্ডলের চুড়ি, মহাকাশের বেড়া ভেঙ্গেচুড়ে দূর্বার—ছুটছে। ঝাপিয়ে পড়ছে নদী, হ্যারিকানের মতো পাখা ঝাপটে ফিরে যাচ্ছে বাড়ি। ওখানেই ওকে মানায়—খরায়, বন্যায়। মাছের ভাগার মতো রাজ্য, বাণিজ্য শেষে তা হয়ে যায় বাড়ি। বাড়ি বলে তো—শ্রেষ্ঠাংশে ঝুলে থাকা বাদুড়ে খাওয়া পৃথিবী।

কবি মামুন রশীদ এর জন্মদিন আজ


Mamun Rashid
আজ শনিবার (২ আগস্ট) সাংবাদিক, কবি মামুন রশীদÑএর ৩৭তম জš§দিন। তিনি ১৯৭৭ সালের আজকের দিনে পাবনা জেলার শালগাড়িয়ায় মাতুতালয়ে জš§গ্রহণ করেন এবং বর্তমানে তার বাস বগুড়া জেলার কলোনীতে। তিনি মানবকণ্ঠের সহকারী সম্পাদক পদে কর্মরত আছেন। ইতোপূর্বে তিনি দৈনিক জনকন্ঠ এবং দৈনিক আজকের কাগজ ছাড়াও পাক্ষিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকায় কাজ করেছেন। তাছাড়া কবি ও গদ্যকার হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে। এ পর্যন্ত  তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা আটটি। কালোপাতা ওড়ো সাদা ছাই,  কুশল তোমার বাঞ্ছা করি, তোমার পরে মেঘ জমলে এবং এই বইটির কোন নাম দিবো নাÑশিরোনামের চারটি কাব্যগ্রন্থ ছাড়াও রয়েছে প্রবন্ধগ্রন্থÑবাংলাদেশের কবিতা, সৃজনে অর্জনে, জীবনীগ্রন্থÑডিরোজিও এবং ছোটদের জন্য গল্পগ্রন্থÑ ডাইনি  বুড়ি ও অন্যান্য গল্প এবং সবুজ বাড়ির ভূত। সম্পাদনা করেছেন সাহিত্যের কাগজ ‘দ্বিবাচ্য’ এবং যৌথভাবে ছোটদের কাগজ ‘ভূতটুস’। তার কবিতা অনূদিত হয়েছে ইংরেজী এবং আসামের ভাষায়। বগুড়া লেখক চক্রের সদস্য মামুন রশীদ এর জš§দিনে বগুড়া লেখক চক্রের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সভাপতি কবি ইসলাম রফিক, সহ-সভাপতি হাবীবুল্লাহ জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক আমির খসরু সেলিম, সহ-সাধারণ সম্পাদক শাহান ই জেসমিন ডরোথী, গণ-সংযোগ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রনজু, আসর পরিচালনা সম্পাদক কামরুন নাহার কুহেলী, নির্বাহী সদস্য নিখিল নওশাদ, আনিছ রহমান, মামুন স¦রকার ও মঞ্জুরুল ইমরান। এছাড়া বগুড়া লেখক চক্রের উপদেষ্টাদের মধ্যে কবি, প্রাবন্ধিক মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্্, আতিকুর রহমান মিঠু, এ্যাড পলাশ খন্দকার, কবি শিবলী মোকতাদির এবং কবি সাংবাদিক জি এম সজল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।


বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই, ২০১৪

ভয়াবহ রাতদিন ॥ তপন বাগচী



ধোঁয়ায় ছেয়েছে গাজার আকাশ_ বোমা-বন্দুক-গুলি
বিশ্বমোড়ল চুপ করে আছে দুচোখে দিয়েছে ঠুলি॥

ইসরাইলের বোমার আঘাতে জ্বলছে ফিলিস্তিন
নিরীহ মানুষ কোথায় পালাবে_ ভয়াবহ রাতদিন।
মানুষ মরছে, ভরছে কেবলি যুদ্ধবাজের ঝুলি।
বিশ্বমোড়ল চুপ করে আছে দুচোখে দিয়েছে ঠুলি॥

আমরা মানুষ প্রতিবাদ করি_ ঘৃণ্য এ হামলার
চাই না কোথাও এক ফোঁটা খুন কখনো ঝরুক আর!
চাই না উড়ুক মায়ের কিংবা শিশুর মাথার খুলি।
বিশ্বমোড়ল চুপ করে আছে দুচোখে দিয়েছে ঠুলি॥

বার বার-বার আসে//মহীবুল আজিজ


এই ফুল হয়তো বুধবারে ফুটেছিল
বুধবারে আমি দেখি নাই
তবে সেটা মঙ্গলেরও তো হতে পারে
নাকি সোমের
রবির কী হতে পারে
মনে হয় না
বৃহস্পতিতেও ফোটে ফুল এবং
বুধের ফুলেদেরও কিন্তু তখন ফুল্লত্ব বজায় রয়েছে
বৃহস্পতিবারে বুধের কিছু ফুল দেখি
বৃহস্পতিরও দেখি
কিন্তু আমি বুধের কিছু ফুলকে হয়তো
বৃহস্পতির বলে মনে করি
হয়তো সেগুলো বৃহস্পতিতে ফোটা ফুলের চেয়েও
প্রফুল্ল রয়ে যায় ও তাদের বুধত্ব পেরিয়ে
এমনকি তারা শুক্রে এসেও
দুনিয়ায় দারুণ রঙিণ দেখায়
শুক্রেও ফুল ফোটে এবং
বুধ বৃহস্পতি শুক্র মিলে
ফুলেরা বাড়তেই থাকে
এর মধ্যে অবশ্য কিছু ফুল মরে যেতে থাকে
শনিবারে আমার হিসেব মেলে না
মরে যাওয়া ফুলটি কী বুধের না বৃহস্পতির
নাকি শুক্র’র
শুক্র’র ফুল কী শনিতে মরে
কোন্ ফুল কি বারে মরলো তাতে কার কী লাভ
মানুষেরাও তো কোন না কোন বারে মরে
বার কি কারও মনে থাকে!

রবিবার, ২৭ জুলাই, ২০১৪

ওয়ালিদ খাজিন্দার অদৃশ্য আলো । ভাষান্তর : অজিত দাশ



দেখো, নির্মম ঠান্ডায়

নগ্ন গাছে ঝুলে আছে শীতের মৌসুম

তোমার হাতের মুঠো থেকে

ছোট্র পাখিটিকে মুক্ত করে দিয়ে

একটু স্থির আর লাজুক হাসি দাও

আমি দেখি নিদারুন মানসিক যন্ত্রণা

আমরা কি গাইবো আবার !

যেভাবে উষ্ণ ছিলাম- হাতে হাত রেখে,

জ্বলজ্বলে সূর্য থেকে একটু ছায়ায়

আমরা কি এভাবে থাকতে পারিনা?

প্রয়োজনের চেয়ে আরো সুদৃশ্য করে

আলো জ্বালাবো, একটু নীরবে?

অন্ধকার ক্রমশ বাড়ছে; আমাদের সতর্ক হতে হব

এবং এই অদৃশ্য আলো আমাদের একমাত্র ভরসা-

এই বিপন্ন শিখা,  শুরু থেকেই জ্বলছে
ঝিকিমিকিয় হয়ে, আসন্ন বিপদের দিকে
  
আমার কাছে আসো, আরো কাছে...

আমি অক্ষম- কিছুতেই বলতে পারি
না
আমার হাতে হাত রাখ

চলো জেগে থাকি যেনো শুভ্র ঝরে

আমাদের প্রাণ না চলে যায়

[ওয়ালিদ খাজিন্দার ১৯৫০ সালে গাজায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ফিলিস্তিনের একজন খ্যাতনামা কবি। ১৯৯৭ সালে প্রথম ফিলিস্তিনি হিসেবে কবিতায় পুরস্কার লাভ করেন। ]